রমজানের শুরুতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, সবজি ও মাছ-মাংসের দামে যে ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছিল, এক সপ্তাহ না পেরোতেই তা কিছুটা কমতে শুরু করেছে। রাজধানীর ইসিবি চত্বর, মিরপুর, মানিকদী ও বালুঘাট এলাকার বিভিন্ন বাজারে ঘুরে দেখা যায়, লেবুসহ কয়েক ধরনের সবজির দাম কমেছে। রোজার শুরুতে ব্রয়লার মুরগি যেখানে ১৮০–২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, এখন তা নেমে এসেছে ১৫৫–১৬৫ টাকায়। গরুর মাংসের দামও কেজিতে প্রায় ৩০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।
বর্তমানে লেবু দোকানভেদে হালি ৪০ থেকে ৬০ টাকা। লাউ ৬০, ফুলকপি ৫০, পাতাকপি ৪০, গোল বেগুন ১০০, লম্বা বেগুন ১২০, চিচিঙ্গা ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। টমেটো ৬০ থেকে ৮০, আলু ২৫, শসা ৮০, কাঁচামরিচ ১৬০, মুলা ৫০, পেঁপে ৪০, কচুর ছড়া ৮০, শিম ৪০ থেকে ৬০, মিষ্টিকুমড়া ৫০, ঢেঁড়স ১৬০, লতি ১২০, বরবটি ১২০, গাজর ৫০, জালি কুমড়া ৫০ টাকা পিস এবং করলা ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
পেঁয়াজ ৫০ টাকা কেজি। ছোট রসুন ১০০ এবং বড় রসুন ২০০ টাকা কেজি। ছোলা বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি দরে।
মানিকদী বাজারের সবজি বিক্রেতা রুবেল বলেন, “দাম এখন আস্তে আস্তে কমতে শুরু করেছে। তবে এভাবে কতদিন কমবে বা আরও কমবে কিনা, সেটা বলা যাচ্ছে না।”
সবজি কিনতে আসা রবিউল বলেন, “কিছু সবজির দাম এখন কমেছে, যেমন ফুলকপি ও পাতাকপি। তবে বরবটি, ঢেঁড়স আর বেগুনের দাম এখনও হাতের নাগালের বাইরে।”
ডিমের পাইকারি দাম ১০০ পিসে ৭৮০ টাকা। খুচরা বাজারে ডজনপ্রতি ডিম ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ডিম বিক্রেতা মোশারফ বলেন, “৭৮০ টাকা পাইকারিতে ডিম বিক্রি করছি। আর কমবে না। রোজার শুরুতে ৮৪০ টাকায় বিক্রি করেছি।”
মাংস ও মুরগির বাজার
বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি ১৫৫ থেকে ১৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লেয়ার মুরগি ২৭০ টাকা। পাকিস্তানি হাইব্রিড ২৭০ এবং অরিজিনাল জাতের পাকিস্তানি মুরগি ৩০০ টাকা কেজি।
মুরগি বিক্রেতা আব্দুল্লাহ বলেন, “মুরগির দাম আস্তে আস্তে আগের অবস্থায় আসছে। তবে এখনও পাকিস্তানি মুরগির দাম বেশি। আশা করি সামনে কমবে। তবে ঈদের সময় আবারও দাম বাড়তে পারে।”
গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা কেজি দরে, যা রোজার শুরুর তুলনায় প্রায় ৩০ টাকা কম।
মাছের বাজার
ছোট তেলাপিয়া ১৯০ এবং বড় তেলাপিয়া ২৪০ টাকা কেজি। রুই ৩৬০ থেকে ৩৮০, পাংগাস ২২০, কই ২৫০, টাকি ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ি ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা কেজি।
বাজার করতে আসা এক গৃহিণী বলেন, “প্রথম রোজায় লেবুর দাম ১২০ টাকা বলছিল। এখন কোনো কোনো দোকানে ৪০ টাকাতেও পাওয়া যায়। তবে ভালো মানের লেবু এখনও ৫০-৬০ টাকা।”
বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে সামনে বাজার আরও স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে ক্রেতাদের প্রত্যাশা, এই স্বস্তি যেন পুরো রমজানজুড়েই বজায় থাকে।