নেত্রকোনায় দিন দিন হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে । গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন ভর্তি রোগী ৭ জন। গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত নতুন তিনজনসহ এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত ১৩ জন। তবে প্রতিটি হাসপাতালে আইসোলেশন বেড রাখা হয়েছে। সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।
জেলার ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, শিশু ওয়ার্ডের বারান্দা পর্যন্ত ঠান্ডাসহ বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে বারান্দার মেঝে পর্যন্ত বন্ধ। এছাড়া শিশু ওয়ার্ডের বিপরীত পাশেই মহিলা ওয়ার্ডটি আইসোলেশন করা হয়েছে। সেখানে আটপাড়া, মোবারকপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ছয়জন ভর্তি রয়েছে।
সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডাক্তার খালেদ সাইফুল্লাহ জানান, প্রতিনিয়ত বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে আসছে রোগীরা। বিশেষ করে শিশু। যে কারণে আইসোলেশন ওয়ার্ড করা হয়েছে পুরনো ১০০ শয্যার আধুনিক হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডটি। যাতে নতুন কেউ সংক্রমিত না হয়।
এদিকে গেল কয়েকদিন ধরে সারাদেশের ন্যায় নেত্রকোনাতেও হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ায় ইতোমধ্যেই সেই উপজেলায় টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। প্রথমেই শুরু হয়েছিল জেলার আটপাড়া উপজেলা দিয়ে। যে কারণে ওই উপজেলায় এই বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। তবে এখন জেলাজুড়ে দিন দিন রোগীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে।
জেলার সিভিল সার্জন গোলাম মাওলা নঈম জানান, গত চব্বিশ ঘণ্টায় নতুন সন্দেহজনক পাওয়া গেছে ১৬ জন। তার মধ্যে সাতজন চিকিৎসার জন্য আইসোলেশনে। একজন দুর্গাপুরে ছয়জন নেত্রকোনার জেলা সদরে। এছাড়া ছুটি নিয়ে বাড়ি গেছে ছয়জন। অন্যদিকে পূর্বধলা থেকে ২ জনকে রেফার্ড করা হয়েছে।
তবে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত জেলার ১০ উপজেলায় সর্বমোট ১৫১ জন হামের সন্দেহজনক রোগী হয়েছে। তারমধ্যে ৫৯ জন হাসপাতালে ভর্তি। ৩০ জন ছুটি নিয়েছে। ১৩ জনকে রেফার্ড করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ৭ এপ্রিল রাত পর্যন্ত সর্বমোট ১০৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় পাঠালে নতুন করে তিনজনসহ মোট ১৩ জনের ল্যাব কনফার্ম হয়েছে। তবে পুরো জেলায় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি রয়েছে।
এছাড়া গত ৫ এপ্রিল থেকে ২১ দিনের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত জেলার আটপাড়া উপজেলায় শুরু হয়েছে। উপজেলার ৭টি ওয়ার্ডের প্রতিটি ওয়ার্ডেই এই বিশেষ টিকাদান চলবে। ৭ এপ্রিল পর্যন্ত টিকা অর্জনের শতকরা হার ১১১ দশমিক বলে তিনি জানান।